পোস্টগুলি

SIR-এর চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা: মানুষের মৃত্যুর কারণ কি এই নতুন ভোটার সমীক্ষা?"

ছবি
  তারিখ: ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫  পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের বহরমপুর স্টেডিয়ামে এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবং নির্বাচন কমিশনের SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং খবরের শিরোনামে এখন একটাই আলোচনা—এই 'SIR' আসলে কী এবং কেন একে "বাংলার মানুষের মৃত্যুর কারণ" হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ১. এই 'SIR' আসলে কী? "SIR"-এর  পূর্ণরূপ হলো Special Intensive Revision (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)। এটি নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। সাধারণত ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ হয়। কিন্তু এই 'SIR'-এর অধীনে ২০০২-০৩ সালের পুরনো নথির সাথে বর্তমান ভোটারদের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা অনেকটা আসামের NRC-র মতো ভীতির সঞ্চার করেছে। ২. "SIR ইজ আ রিজন অফ এভরি ডেড" (SIR-ই কি সব মৃত্যুর কারণ?)  "Sir is a reason of every dead" কথাটি আজ মুখ্যম...

ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে বিকল ‘সি-আর্ম’ মেশিন, ব্যাহত অস্ত্রোপচার, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

ছবি
  নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গত এক মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে উন্নত মানের এক্স-রে মেশিন। যার জেরে শিকেয় উঠেছে অর্থোপেডিক ও পেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার। প্রবল যন্ত্রণার মধ্যেও সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিকল হয়ে পড়া যন্ত্রটি হলো ‘সি-আর্ম’ (C-Arm) এক্স-রে মেশিন। এটি মূলত একটি অত্যাধুনিক মেডিক্যাল ইমেজিং ডিভাইস, যা জটিল হাড়ের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বিশেষ সহায়তা করে। এই যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন কোণ থেকে শরীরের হাড়ের অবস্থান দেখে নিখুঁত অপারেশন করা সম্ভব হয়। কিন্তু গত এক মাস ধরে এই যন্ত্রটি খারাপ থাকায় থমকে গেছে সমস্ত বড় ধরনের অর্থোপেডিক সার্জারি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ছুটছেন বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু জঙ্গলমহলের দরিদ্র রোগীদের ভরসা শুধুই এই সরকারি হাসপাতাল, ফলে তারা দিশাহারা। সম্প্রতি এক রোগীর পরিবার জানায়, দুর্ঘটনায় পায়ে হাড় ভেঙে যাওয়ার পর রোগীকে এখানে ভর্তি করা হলেও, মেশিনের অভাবে অপারেশন করা সম...

হিমঘরে আলু রাখার সময়সীমা বাড়ল, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ল ভাড়াও! আশঙ্কায় বাঁকুড়ার ব্যবসায়ী মহল

ছবি
  ​ বাঁকুড়া: বছরের শেষ দিকে এসে ফের চিন্তার ভাঁজ আলু ব্যবসায়ীদের কপালে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে হিমঘরে আলু রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হিমঘরের ভাড়াও। আর এই জোড়া ফলাতেই বিপাকে পড়েছেন বাঁকুড়ার আলু ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই বাড়তি ভাড়ার জেরে বড়সড় লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে তাঁদের। ​ মূল বিষয়টি কী? সাধারণত নভেম্বর মাসের শেষের দিকেই হিমঘরগুলি খালি করে দেওয়া হয় বা আলুর স্টক শেষ হয়ে আসে। কিন্তু চলতি বছর ফলন এবং মজুতের সমীকরণে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন হিমঘরে এখনো প্রচুর পরিমাণে আলু মজুত রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ আলু যাতে নষ্ট না হয়, সেই কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার হিমঘরে আলু রাখার সময়সীমা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সমস্যার মূল কারণ হলো, সময়সীমার সঙ্গে সঙ্গে হিমঘর ভাড়াও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ​ ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কেন? ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, বর্তমান বাজারে আলুর যা দাম, তার ওপর ভিত্তি করে লাভের মুখ দেখা এমনিতেই কঠিন। তার ওপর যদি হিমঘরে আলু রাখার জন্য বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়, তবে সেই আলুর উৎপাদন খরচ বা 'ল্যান্ডিং কস্ট' অনেকটাই বেড়ে যাবে। ​ ...

ইউনিয়নের 'দাদাগিরি'তে রুজি বন্ধ, প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন দুই চালকের

ছবি
পূর্ব মেদিনীপুর, সুতাহাটা: রুজিরুটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ঋণের কিস্তি মেটাতে না পেরে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রশাসনের কাছে 'স্বেচ্ছামৃত্যু'র অনুমতি চাইলেন হলদিয়ার সুতাহাটার দুই অটো চালক। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় অটো ইউনিয়নের বাধার কারণেই তাঁরা নতুন কেনা ব্যাটারি চালিত যান (ই-রিকশা বা গোগো) নিয়ে নির্দিষ্ট রুটে নামতে পারছেন না। কী ঘটেছে? ভুক্তভোগী চালক তাপস ঘোষ এবং রজ্জাক আলি জানান, তাঁরা ধারদেনা করে এবং মাসিক কিস্তিতে (EMI) নতুন ব্যাটারি চালিত গাড়ি কিনেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সুতাহাটা দুর্গাচক ইউনিয়নের কিছু पदाधिकारी তাঁদের গাড়ি চালাতে বাধা দিচ্ছেন। নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরে তাপস ঘোষ বলেন, "আমি আগেও এই রুটে অটো চালাতাম। এখন কিস্তিতে নতুন গাড়ি কিনেছি, কিন্তু ইউনিয়ন আমাকে কাজ করতে দিচ্ছে না। আমার ওপর শারীরিক নিগ্রহও করা হয়েছে। যদি রোজগারই না করতে পারি, পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারি, তবে আমাকে মরার অনুমতি দেওয়া হোক।" অপর চালক রজ্জাক আলি জানান, পুলিশের কাছে গেলে তাঁদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। ইউনিয়নের যুক্তি অন্যদিকে, সুতাহাটা দুর্...

নজিরবিহীন রায় কাঁথি আদালতের: ৭ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

ছবি
  ​ কাঁথি: শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় এক ঐতিহাসিক রায় দিল পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি আদালত। ৭ বছরের এক বালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক যুবককে 'আমৃত্যু কারাদণ্ড' (জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেল) শোনালেন বিচারক। মঙ্গলবার কাঁথি আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশন জাজ (স্পেশাল কোর্ট) এই রায় ঘোষণা করেন। ​ কী ঘটেছিল? আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে। অভিযুক্ত শঙ্কর দিন্দা (৩২) কাঁথি শহরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল। সেই সময় বাড়িতে ওই ৭ বছরের শিশুটি তার দিদার (নানি) সঙ্গে ছিল। শিশুটির দিদা অভিযুক্তকে নাতনির খেয়াল রাখতে বলে স্নানে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই ফাঁকা বাড়িতে শিশুটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় ওই যুবক। অভিযুক্ত শঙ্কর দিন্দার বাড়ি কাঁথির কুলবনি গ্রামে এবং সে নির্যাতিতা শিশুটির পরিবারের পূর্ব পরিচিত ছিল। ​ আদালতের রায় ও সাজা প্রায় ১০ জন সাক্ষীর বয়ান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অজয়েন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য অভিযুক্ত শঙ্কর দিন্দাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ​ সাজা: পকসো (POCSO) আইনের ৬(১) ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (এ ও বি) ধারায় দোষীকে আমৃত্...

২৬ বছর পরও দগদগে ক্ষোভ! 'কী বা পেলাম', আক্ষেপ কেশপুরের হাত কাটা হসরত আলির

ছবি
  কেশপুর: ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখটা ছিল ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৯। আজকের দিনেই বদলে গিয়েছিল কেশপুরের হসরত আলির জীবন। ২৬ বছর আগে রাজনৈতিক সংঘর্ষে দুটি হাতই খোয়াতে হয়েছিল তাঁকে। অভিযোগের তির ছিল সেই সময়ের শাসকদল সিপিএমের দিকে। কিন্তু আড়াই দশক পর, আজ সেই হসরত আলির গলাতেই শোনা যাচ্ছে অভিমানের সুর। তাঁর আক্ষেপ, "দিদি সব জানেন... কিন্তু আমরা পুরোনোরা কী বা পেলাম!" মঙ্গলবার কেশপুরের মাজুরিয়া গ্রামে নিজের বাড়িতে বসেই পুরোনো স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ধরেন পঞ্চাশোর্ধ হসরত। তিনি জানান, তৃণমূল করার অপরাধেই সেদিন তাঁর ওপর নেমে এসেছিল নির্মম অত্যাচার। দীর্ঘ ১১ বছর ঘরছাড়া ছিলেন, কলকাতায় মুকুল রায় ও পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়দের আশ্রয়ে দিন কেটেছিল। কিন্তু আজ দলের সুসময়ে তিনি ব্রাত্য। হসরতের কথায়, "এখন তো সব নব্য নেতাদের ভিড়। সিপিএম-বিজেপি থেকে আসা লোকেরাই এখন দল চালাচ্ছে, লুটে খাচ্ছে। নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে এখন সংসার চালাতে হয়।" যদিও হসরতের এই ক্ষোভের কথা মানতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্যের মন্ত্রী তথা কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, "হসরত আলি সিপিএমের নির্মমতার প্রতীক। মমতা বন্দ্যো...