নজিরবিহীন রায় কাঁথি আদালতের: ৭ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
কাঁথি: শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় এক ঐতিহাসিক রায় দিল পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি আদালত। ৭ বছরের এক বালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক যুবককে 'আমৃত্যু কারাদণ্ড' (জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেল) শোনালেন বিচারক। মঙ্গলবার কাঁথি আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশন জাজ (স্পেশাল কোর্ট) এই রায় ঘোষণা করেন।
কী ঘটেছিল?
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে। অভিযুক্ত শঙ্কর দিন্দা (৩২) কাঁথি শহরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল। সেই সময় বাড়িতে ওই ৭ বছরের শিশুটি তার দিদার (নানি) সঙ্গে ছিল। শিশুটির দিদা অভিযুক্তকে নাতনির খেয়াল রাখতে বলে স্নানে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই ফাঁকা বাড়িতে শিশুটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় ওই যুবক। অভিযুক্ত শঙ্কর দিন্দার বাড়ি কাঁথির কুলবনি গ্রামে এবং সে নির্যাতিতা শিশুটির পরিবারের পূর্ব পরিচিত ছিল।
আদালতের রায় ও সাজা
প্রায় ১০ জন সাক্ষীর বয়ান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অজয়েন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য অভিযুক্ত শঙ্কর দিন্দাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
- সাজা: পকসো (POCSO) আইনের ৬(১) ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (এ ও বি) ধারায় দোষীকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- জরিমানা: কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
- ক্ষতিপূরণ: নির্যাতিতা শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে 'পূর্ব মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল অথরিটি'-কে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
মামলার সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং তারপর থেকেই সে জেল হেফাজতে ছিল। কাঁথি আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে শিশু সুরক্ষা এবং নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন