২৬ বছর পরও দগদগে ক্ষোভ! 'কী বা পেলাম', আক্ষেপ কেশপুরের হাত কাটা হসরত আলির

 


কেশপুর: ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখটা ছিল ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৯। আজকের দিনেই বদলে গিয়েছিল কেশপুরের হসরত আলির জীবন। ২৬ বছর আগে রাজনৈতিক সংঘর্ষে দুটি হাতই খোয়াতে হয়েছিল তাঁকে। অভিযোগের তির ছিল সেই সময়ের শাসকদল সিপিএমের দিকে। কিন্তু আড়াই দশক পর, আজ সেই হসরত আলির গলাতেই শোনা যাচ্ছে অভিমানের সুর। তাঁর আক্ষেপ, "দিদি সব জানেন... কিন্তু আমরা পুরোনোরা কী বা পেলাম!"

মঙ্গলবার কেশপুরের মাজুরিয়া গ্রামে নিজের বাড়িতে বসেই পুরোনো স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ধরেন পঞ্চাশোর্ধ হসরত। তিনি জানান, তৃণমূল করার অপরাধেই সেদিন তাঁর ওপর নেমে এসেছিল নির্মম অত্যাচার। দীর্ঘ ১১ বছর ঘরছাড়া ছিলেন, কলকাতায় মুকুল রায় ও পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়দের আশ্রয়ে দিন কেটেছিল। কিন্তু আজ দলের সুসময়ে তিনি ব্রাত্য। হসরতের কথায়, "এখন তো সব নব্য নেতাদের ভিড়। সিপিএম-বিজেপি থেকে আসা লোকেরাই এখন দল চালাচ্ছে, লুটে খাচ্ছে। নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে এখন সংসার চালাতে হয়।"

যদিও হসরতের এই ক্ষোভের কথা মানতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্যের মন্ত্রী তথা কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, "হসরত আলি সিপিএমের নির্মমতার প্রতীক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই ওঁর চিকিৎসা হয়েছে, ঘর ও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দল সবসময় ওঁর পাশে আছে।"

অন্যদিকে, ঘটনার ২৬ বছর পরেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিপিএম। সিপিএম নেতা সুভাশিস পাইন দাবি করেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। গ্রাম্য বিবাদের জেরে উত্তেজিত জনতা এই ঘটনা ঘটিয়েছিল এবং সিপিএম কর্মীরাই তাঁকে উদ্ধার করেছিল।

সব মিলিয়ে, ২৬ বছর আগের সেই অভিশপ্ত দিনটি আজও তাড়া করে বেড়ায় হসরত আলিকে। রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত, কিন্তু তাঁর 'হাত' হারানোর যন্ত্রণা আর 'পাওনা' না পাওয়ার আক্ষেপ—দুটোই আজ সমানে দগদগে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

SIR-এর চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা: মানুষের মৃত্যুর কারণ কি এই নতুন ভোটার সমীক্ষা?"

বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় সরকারি জনগণনা ফর্ম পূরণে অনীহা, নেপথ্যে 'মাঝি সরকার'-এর বিভ্রান্তি?