বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় সরকারি জনগণনা ফর্ম পূরণে অনীহা, নেপথ্যে 'মাঝি সরকার'-এর বিভ্রান্তি?
ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা শেষ হতে চললেও বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল এলাকায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি জনগণনা বা 'এনিউমারেশন ফর্ম' পূরণে বেঁকে বসেছেন বহু আদিবাসী পরিবার। প্রশাসনের শত অনুরোধ ও প্রচার সত্ত্বেও তাঁরা সরকারি ফর্মের বদলে 'মাঝি সরকার'-এর দেওয়া পরিচয়পত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই ঘটনায় রীতিমতো চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলা প্রশাসনের কপালে।
ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ও পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকা। স্থানীয় সূত্রে খবর, 'সমাজবাদ অন্তরাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার' এবং 'অন্তরাষ্ট্রিয় মাঝি সরকার কিসান' নামক সংগঠনের পক্ষ থেকে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে প্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের দাবি, সরকারি পরিচয়পত্রের প্রয়োজন নেই, তাদের সংগঠনের দেওয়া কার্ড থাকলেই মিলবে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা। অভিযোগ, এই কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে গ্রামবাসীর কাছ থেকে অর্থও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১১ই ডিসেম্বরের মধ্যে 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু রানিবাঁধের মুচিকাটা গ্রামসহ বেশ কিছু এলাকায় প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ গিয়েও গ্রামবাসীদের ফর্ম পূরণে রাজি করাতে পারেননি। উল্টে অনেক গ্রামবাসী তাঁদের পুরনো ভোটার ও আধার কার্ড ফেরত দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা 'মাঝি সরকার'-এর কার্ডেই আস্থা রাখছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, "আমরা গ্রামবাসীদের বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছি। এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ না করলে নতুন ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে না, ফলে তাঁরা ভোটাধিকার হারাবেন। কিন্তু অনেকেই ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।"
শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। ওড়িশা বা ছত্তিশগড় থেকে একটি চক্র কাজ করছে যারা সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে টাকা রোজগার করছে এবং সরকারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, যারা সাধারণ মানুষকে ফর্ম পূরণ করতে বারণ করছেন, সেই সংগঠনের নেতাদের অনেকেই গোপনে নিজেদের সরকারি নথিপত্র ঠিক রেখেছেন।
বান্দোয়ানের বিধায়ক এবং স্থানীয় নেতারাও এই বিভ্রান্তি কাটাতে মাঠে নেমেছেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাচ্ছেন যে সরকারি স্বীকৃতি ছাড়া অন্য কোনো বেসরকারি কার্ডের আইনি বৈধতা নেই। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, হাল না ছেড়ে শেষ দিন পর্যন্ত মানুষকে সচেতন করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন